রমজান সংযম, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে একজন মুমিন শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকে না; বরং লোভ, স্বার্থপরতা ও অনৈতিক আচরণ থেকেও নিজেকে সংযত রাখার প্রশিক্ষণ নেয়। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সিয়াম কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; সিয়াম হলো পাপ এবং অনর্থ থেকে বিরত থাকা”। (সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ১৯৯৬)
কিন্তু পরিতাপের বিষয়—এই সংযমের মাসেই আমাদের দেশে রমযানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়িদের বড় বড় সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। সবজি বাজার, ফলের বাজার থেকে নিয়ে নিত্য পণ্যের বাজারও এই সিন্ডিকেটের হাতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ক্ষতির শিকার হয় ক্রেতা সাধারণ। মাসব্যাপী নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে অনেকেই হাঁপিয়ে ওঠে। স্বাস্থসম্মত দুবেলা সাহরী ইফতারের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়ে অনেক পরিবারের।
এটি সুস্পষ্ট জুলুম এবং মারাত্মক অন্যায়। রোযাদারের মুখের গ্রাস নিয়ে অন্যায় মুনাফা কামানোর নামান্তর। হাশরের ময়দানে এর জন্য কঠিন জবাবদিহিতার শিকার হতে হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ۔ অর্থ : পাপীরাই কেবল মজুতদারি করে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২০৬)
পবিত্র রমজানে ব্যবসায়িদের উচিত রোজাদারদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করা। অল্প মুনাফার মাধ্যমে তাদের সাহরী ও ইফতারে সহযোগিতা করা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমান সওয়াব লাভ করবে।” (সুনানে তিরমিজি, হাদীস নং ৮০৭) একজন ব্যবসায়ী যদি ন্যায্যমূল্যে বা কম দামে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে রোজাদারের ইফতারে সহযোগিতা করেন, তবে তিনিও এ হাদীসের সুসংবাদের অংশীদার হতে পারেন।
তাই রমজানের এই পবিত্র মাসে সিন্ডিকেটকারীদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা। রাতারাতি সম্পদশালী হওয়ার নেশা থেকে বের হয়ে আসা। এই সম্পদ আত্মসাতের সম্পদ, এই সম্পদ অন্যায় ও জুলুমের সম্পদ, এই সম্পদ রোযাদারের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়া সম্পদ। এধরনের হারাম সম্পদ উপার্জন থেকে বের হয়ে হালাল উপার্জন ও নৈতিক ব্যবসায় আত্মনিয়োগের সময় এখনই। রমযান মাসই তার উত্তম মৌসুম।
লিখেছেন:
মুফতি মুহাম্মদ সানাউল্লাহ
শিক্ষক, মারকাযু দিরাসাতিল ইকতিসাদিল ইসলামী
লেখাটি ২৭/০২/২৬ সময় নিউজে প্রকাশিত হয়। লিংক- https://www.somoynews.tv/news/2026-02-25/6wYIHTZw




