দেখতে দেখতে শেষ হয়ে এল মাহে রমজান। এ মাস যাবতীয় পাপ মোচনের মাস। তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে ক্ষমা লাভ করার মাস। রমজানের শেষ প্রহর ক্ষমা লাভের শেষ সুযোগ। এই শেষ দশকেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ একটি রাত। লাইলাতুল কদর। এ রাত ক্ষমা প্রাপ্তির বিশেষ রাত। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ইবাদতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করে, আল্লাহ তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০১)
নবীজী তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকেও এ রাতে ক্ষমার দুআ শিখিয়েছেন। হযরত আয়েশা বলেন, আমি নবীজীকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, যদি আমি লাইলাইতুল কদর পাই তবে আমি কী দুআ করবো? “নবীজী বললেন, তুমি এই দুআ করবে-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করুন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৮৫০)
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমরা রমজান শেষের এই মূল্যবান সময়টিকেই সবচেয়ে অবহেলায় কাটাই। ঈদের কেনাকাটা ও আনন্দ ফূর্তিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। অথচ রমজানের এই শেষ প্রহরে এসে মুমিন মাত্রই মনে প্রশ্ন জাগা উচিত, আমি কি রমজানকে যথাযথ কাজে লাগাতে পেরেছি? আমি কি রব্বুল আলামিনের কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করতে সক্ষম হয়েছি? যদি উত্তর হয় ‘না’, তবে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুশিয়ারি স্মরণ করি, “ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি যে রমজান পেল, আর ক্ষমা লাভ করার পূর্বেই রমজান বিদায় নিল” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫৪৫)
তাই আসুন, রমজানের শেষ প্রহরটুকুকে আর অবহেলায় নষ্ট না করি। বরং এটিকে বানিয়ে তুলি ক্ষমা লাভের শেষ সুযোগ—আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার শেষ আহ্বান।
লিখেছেন:
মুফতি মুহাম্মদ সানাউল্লাহ
শিক্ষক, মারকাযু দিরাসাতিল ইকতিসাদিল ইসলামী
লেখাটি ১৫/০৩/২০২৬ সময় নিউজে প্রকাশিত হয়। লিংক- https://www.somoynews.tv/news/2026-03-15/I4LSZPTH




